Home / Crime / ভাইয়া আমার এত বড় ক্ষতি কইরো না প্লিজ ছেড়ে দাও…

ভাইয়া আমার এত বড় ক্ষতি কইরো না প্লিজ ছেড়ে দাও…

আমি শ্রাবন্তী। আমরা দুই বোন। আমি ছোট। আমার বড় আপুর বিয়ে হয়েছে ৭ বছর আগে। আপুর সংসারে চরম অভাবের কারনে আপু আর দুলাভাই পাড়ি জমায় ঢাকা শহরে। সেখানে তারা একটি গার্মেন্টস ফাক্টরিতে চাকুরী জোগাড় করে । দুই বছর অতিবাহিত হলে আপুর সংসারে স্বচ্ছলতা দেখা দেয়। আপু আর দুলাভাইয়ের এখন অনেক টাকা।

সংসার খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, সবমিলিয়ে ২০-৩০হাজার টাকার নিচে তো হয় না। এক ঈদের ছুটিতে আপু দেশের বাড়িতে বেড়াতে আসলো। সবার জন্য পোশাক, অনেক খাবার-দাবার নিয়ে আসলো। এসব দেখে গ্রামের সকলেই হতবাক। ঈদের ছুটি শেষে আপুর যাবার সময় হয়ে এসেছে। আপু বাবা-মাকে বুঝে শুনে রাজি করিয়েছে আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবে বলে। আপু আমাকে একেবারে ঢাকা নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু পড়াশুনার কথা মাথায় রেখে আমি কয়েকদিনের জন্য যেতে রাজি হই।

 

যথারীতি আমি তাদের সাথে রওনা দিলাম। ঢাকা গিয়ে দেখলাম আপু অনেক বড় বাসায় থাকে। পরের দিন থেকে লক্ষ্য করলাম, প্রতিদিন অপরিচিত লোকজনের আসা-যাওয়া হচ্ছে আপুর বাসায়। এসব দেখে আমার একটু সন্দেহ লাগলো। আমি আপুকে জিজ্ঞেস করলাম- আপু প্রতিদিন এসব অপরিচিত লোকজন কেন আসে তোমার বাড়ি? আপু জবাবে বলল চুপ থাক পরে বুঝবি? এত খরচ কোথা থেকে আসে জানিস?

আমার আরো সন্দেহ বেড়ে গেল। হটাৎ একদিন আমার সন্দেহ বাস্তবে রূপ নিল। দেখলাম একটি লোক ঘরের ভেতরে ঢুকল। আপু তার সাথে ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিল। প্রায় এক ঘন্টা পর দরজা খুলল।

এসব দেখে আমার একদম ভালো লাগলো না। আমি মনে মনে আপুকে খুব ঘৃনা করতে লাগলাম। রাতে আপুকে বললাম- আপু তুমি আজ ঐ লোকটার সাথে ঘরের ভেতর কি করছিলে? আপু বলল সব বুঝিস তো বলছিস কেন? কয়েকদিন পর তুইও করবি? তাহলে আরো অনেক বেশী আয়-ইনকাম হবে।

আমি তো অবাক! আমার নিজের আপু এসব কি বলছে? পরের দিন আমি আপুকে বললাম আমি এসব কখনো করব না। আমি কালই বাড়ি যাব। কে শোনে কার কথা। বাবার সমতূল্য দুলাভাই পরের রাতে একজনকে সাথে নিয়ে বাসায় আসল। আপু আমাকে অনেক শাসিয়ে বলল- বেশী বাড়াবাড়ি করবি না। লোকটি যা বলে তাই করবি। নচেৎ সকলেরই বিপদ।

এসব না করলে তারা আমাদের এলাকায় থাকতে দেবে না। এই বলে আপু আমাকে ঘরে রেখে ঐ লোকটাকে ডাক দিল। তারপর আমাকে একা রেখে আপু দরজা বন্ধ করে বাহিরে চলে গেল। এরপর আমার উপর চলল ঐ মানুষটার নির্যাতন। কিন্তু এমন অবস্থায় আমারই বা কি করার ছিল। এভাবে কয়েকদিন চলল।

আমার বাড়ি থেকে বাবা-মা ফোন দিয়ে আমাকে যেতে বলল। আমার আপু প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু বাবার জেরাজেরিতে আমাকে বাড়ি যেতে দিতে রাজি হয়। বাড়ি যাবার আগে আপু আমাকে অনেক ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলল এসব কথা যেন বাড়ির কেউ না জানে। আমি এসব কথা কখনই কাউকে বলতে পারি না। আমার জীবনের সেই কয়টা দিনের কথা আমাকে প্রতি মূহুর্তে তাড়া করে।

 

Check Also

‘গুম’ হওয়া মা-মেয়ে ১১ বছর পর উদ্ধার..

বরিশালে খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার ১১ বছর পর গুম হওয়া মা …