মাত্র এই কয়টা টাকার জন্য ভয়ঙ্কর সেই চার খুন!

322

ইয়াবা বিক্রির ৬ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধেই নৃশংসভাবে খুনের শিকার হয়েছে শিবগঞ্জের ৪ ব্যক্তি। এঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো: শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগড়া চকপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র জুয়েল শেখ (২৫), একই উপজেলার চন্দনপুর তালুকদার পাড়ার আব্দুস সামাদের পুত্র আবুল কালাম আজাদ (৪৮) ও ডাবইর গ্রামের মৃত আবু বক্করের পুত্র মো: রুবেল।

রোববার রাত ও সোমবার ভোরে তাদেরকে শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা গ্রেফতারের মধ্য দিয়েই চাঞ্চল্যকর এই ফোর মার্ডারের রহস্য উন্মোচন হলো। সোমবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার ঐ ৩ জনকে গ্রেফতার বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
বগুড়া পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে প্রেসব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম জানান, খুনীদের টার্গেট ছিল ২ জন। ২ জনকে জবাই করার ঘটনা অন্য দুইজন দেখে ফেলায় তাদেরকেও একই কায়দায় হত্যা করে খুনিরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মোট ৯ জন অংশগ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছে। বগুড়া পুলিশ টিম ও ঢাকার ইন্টেলিজেন্স ইউং যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃতরা সবাই মাদকের সাথে জড়িত। হত্যাকাণ্ডে ২ জন ঐ চার ব্যক্তিকে ছোরা দিয়ে জবাই করেছে। ২ জনের একজন জুয়েলকে পুলিশ ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সুপার আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ২/ ৩দিন আগে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এসময় খুনিরা আটমুল ইউনিয়নের কাঠগড়া চকপাড়ার আছির উদ্দিনের পুত্র শাবরুল ইসলাম শাবুল (৩৫) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের পুত্র জাকারিয়াকে (৩২) হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত রুবেলের বাড়িতে মাদক সেবনের কথা ও পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার প্রলোভন দিয়ে ঐ দুইজনকে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদেরকে ডাবইর ধান ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে হাত বেধে ধারালো ছোরা দিয়ে জবাই করে হত্যা করে খুনিরা। শাবুল ও জাকারিয়া কে হত্যার পরই ঐ ক্ষেতের পাশ দিয়ে দুজনকে যেতে দেখে খুনি চক্র তাদের ডাক দেয়।

কালাই উপজেলার পুনট (পাঁচপাইকা) গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে মোহাম্মদ হেলাল (৩২) নান্দাইল দীঘি গ্রামের শামছুদ্দিন মন্ডল শ্যাম্পুর ছেলে খবির হোসেন ওরফে বাউশা (৩৪) কিছু হেরোইনের পুড়া নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল বলে জানায় তারা খুনিদের। এসময় ঐ দুইজনের জবাইকৃত লাশও দেখে ফেলে তারা। এই দুইজনকে খুনিরা চিনত না বা তাদের পরিকল্পনার মধ্যেও তারা ছিল না। শুধু দুইজনের হত্যকাণ্ড জেনে ফেলায় একই কায়দার হেলাল ও খবিরকে তারা হত্যা করেছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গ্রেফতারকৃতরা। উল্লেখ্য, ৭ মে শিবগঞ্জের ডাবইর ধান ক্ষেতের মধ্য থেকে নিহতদের হাত পিছন দিক দিয়ে মোড়া করে বাধা থাকা লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক তত্বাবধানে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হলো। এদিকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার সহ পুলিশ কর্মকর্তারা