আপনার পেটে গ্যাস হলে করণীয় কি? গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার উপায় কি?

5654

পেটে গ্যাস হয়নি বা হয় না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে মেয়েরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। কিন্তু পুরুষ-নারী যারই হোক না কেন, এটাকে অবহেলা করলে বা চিকিৎসা না করলে তা শরীরের জন্য খারাপ। কারণ গ্যাস এসিডিটি থেকে অনেক রোগের উৎপত্তি পারে। আমাদের

যারা ভোগেন কেবল তারাই বোঝেন এটি কত যন্ত্রণার। একটু ভাজাপোড়া অথবা দাওয়াত, পার্টিতে মসলাযু্ক্ত খাবার খেলে তো শুরু হয়ে যায় অস্বস্তিকর গ্যাসের সমস্যা। ফাস্ট ফুড, ব্যস্ত জীবনযাত্রার যুগে গ্যাস, পেটের অসুখ এখন ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো বাসায় গেলেই গ্যাস্ট্রিকের ১ পাতা ওষুধ অবশ্যই পাওয়া যায়। তবে কী গাদা গাদা গ্যাসের ওষুধে এ সমস্যা দূর হয়! কিন্তু ঘরোয় কিছু উপায় আছে যেগুলি প্রয়োগ করলে গ্যাস, বুক জ্বালা থেকে সহজেই বাঁচা যায়।
১. শসা : শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।
২. দই : দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়।
৩. পেঁপে : পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে।
৪. কলা ও কমলা : কলা ও কমলা পাকস্থলির অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়াও কলার সলুবল ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। সারাদিনে অন্তত দুটি কলা খান। পেট পরিষ্কার রাখতে কলার জুড়ি মেলা ভার।
৫. আদা : আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।
৬. ঠাণ্ডা দুধ : পাকস্থলির গ্যাসট্রিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় ঠাণ্ডা দুধ। এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করলে অ্যাসিডিটি দূরে থাকে।
৭. দারুচিনি : হজমের জন্য খুবই ভালো। এক গ্লাস পানিতে আধ চামচ দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে ফুটিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার খেলে গ্যাস দূরে থাকবে।
৮. জিরা : জিরা পেটের গ্যাস, বমি, পায়খানা, রক্তবিকার প্রভৃতিতে অত্যন্ত ফলপ্রদ। জ্বর হলে ৫০ গ্রাম জিরা আখের গুড়ের মধ্যে ভালো করে মিশিয়ে ১০ গ্রাম করে পাঁচটি বড়ি তৈরি করতে হবে। দিনে তিনবার এর একটি করে বড়ি খেলে ঘাম দিয়ে জ্বর সেরে যাবে।
৯. লবঙ্গ : ২/৩টি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষলে একদিকে বুক জ্বালা, বমিবমিভাব, গ্যাস দূর হয়। সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
১০. এলাচ : লবঙ্গের মতো এলাচ গুঁড়ো খেলে অম্বল দূরে থাকে।
১১. পুদিনা পাতার পানি : এক কাপ পানিতে ৫টা পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খান। পেট ফাঁপা, বমিভাব দূরে রাখতে এর বিকল্প নেই।
১২. মৌরির পানি : মৌরি ভিজিয়ে সেই পানি খেলে গ্যাস থাকে না।
এ ছাড়াও খাবারে সরষে যোগ করুন : সরষে গ্যাস সারাতে করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন খাবারের সাথে সরষে যোগ করা হয় যাতে সেইসব খাবার পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে না পারে। নজর রাখতে হবে নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি। জেনে নিতে হবে কোনটি খাওয়া উচিত হবে কোনটি হবে না।
সর্বপ্রথম এই গ্যাস এসিডিটির উৎস বা কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ঘাড়ে ব্যথা, আমাশয়, পিত্তথলিতে পাথর জমলে, লিভারের সমস্যা থাকলে, মানসিক সমস্যা থাকলে এই সমস্যা হতে পারে। অনেকে সঠিক সময়ে নাশতা করেনা বা একেক দিন একেক সময়ে নাশতা করেন, তাদের পেটে গ্যাস বা এসিডিটি হতে পারে।
বিশেষ করে নারীরা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। কারণ তাদের খাওয়া দাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। অনেক নারীরাই সাংসারিক কাজে ব্যস্ত হয়ে সারা দিন না খেয়েও থাকেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পিত্তথলিতে পাথর জমতে পারে। যারা শাকসবজির চেয়ে গরম মসলাযুক্ত খাবার বেশি
খান, তাদেরও পেটে গ্যাস বা এসিডিটি হয়। যাদের পাকস্থলীতে আলসার আছে তাদেরও গ্যাস বা এসিডিটি হয়। গ্যাস বা এসিডিটি হলে ঘন ঘন ঢেকুর ওঠে। এতে কারও ঢেকুর দুর্গন্ধ হয়।
চিকিৎসকেরা রসিকতা করে বলেন তিনটি ‘এফ’ হলো গ্যাস এসিডিটির শিকার।
১। ফিমেল
২। ফার্টাইল বা সন্তান ধারনে সক্ষম
৩। ফরটি বা চল্লিশ বছর বয়সে
এরা বেশি গ্যাস এসিডিটিতে ভোগে। এ জন্য অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা করানো জরুরি। বলা হয়ে থাকে যে, দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে নাশতা ও আহার করা, গরম মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে বেশি করে শাকসবজি ও মাছ খাওয়া, ভাজাপোড়া বর্জন করা, ফাস্টফুড না খাওয়া, দই,
ঘোল, লেবুর শরবত খাওয়া উচিত। কোমল পানীয় বা সব ধরনের কোলা পান করা থেকে বিরত থাকা, মসুর ও খেসারি ডাল না খাওয়া, যেসব শাক খেলে হজম হয়না সেই সব শাক না খাওয়শা যেমন- পুইশাক খেলে অনেকের পেট গরম হয়ে যায়। অনেকের মিষ্টিকুমড়া খেলে হজমে গোলমাল হয়। পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া পেটের জন্য ভাল। বাজারে নানা প্রকার গ্যাসের ওষুধ পাওয়া যায়, এসব না খায়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে গ্যাস ভা এসিডিটির ওষুধ খান।