বাড়ির ভিতর সাপের খামার কোটি টাকার হাতছানি! #দেখলে আপনি অবাক হবেন।

5847

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কাঁসাদহ গ্রামে পরীক্ষামূলক এই বিষধর সাপের খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। বাসা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সাপ নিয়ে সাপের খামার |
২০১৩ সালের জুলাই মাসে ৮৩ শতাংশ জমির উপর এই খামারটি গড়ে তুলেছেন ওই এলাকারই তন্ময় সরকার, শাহিনুজ্জামান, মিরাজ শেখ, রমেশ বিশ্বাস, প্রদীপ বিশ্বাস, মন্দীপ কুমার বিশ্বাসসহ আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে মূল উদ্যোক্তা হলেন মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিক। বাকিরা তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।

পরীক্ষামূলক এই খামারের তারা নামকরণ করেছে ‘রাজবাড়ী স্ন্যাক ফার্ম’ নামে।

বর্তমানে খামারটিতে রেটস্নেক, কাউকিয়া, পাইথন, রাসেলফইবারসহ ৬ প্রজাতির ৫০টি বিষধর গোখরা সাপ রয়েছে রয়েছে। কয়েকটি সাপ ইতোমধ্যে ডিমও দিয়েছে। এছাড়াও খামারের ও বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ এর মতো ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ডিম দিয়ে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে খামারেই। এতে খামারের উদ্যোক্তারা বেজায় খুশি।বাসা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সাপ নিয়ে সাপের খামার

ঝালকাঠির রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে বিষধর সাপের খামার। উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর রাজাপুর গ্রামের সালাউদ্দিন মৃধা নামের এ তরুণ যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতেই নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে তুলেছেন বিষধর এই সাপের খামার। খামারের নাম দিয়েছেন ‘রাজাপুর কোবরা ভেনম’। অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবারে সালাউদ্দিন মৃধা আবেদন করলেও এখনও অনুমোদন না পাওয়ায় থমকে আছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পের খামারের কার্যক্রম। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি উপজেলার দেশি কোবরা, শঙ্খীনি জাতের ৩০টিরও বেশি সাপ নিয়েই চালাচ্ছেন খামার। গত বছর ৫টি সাপ নিয়ে খামারের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি। সাপের বিষ রফতানির উদ্যোগ নেয়ার কথা সরকার ঘোষণা করার পর অনুপ্রাণিত হয়ে সালাউদ্দিন খামারটি গড়ে তোলেন। সালাউদ্দিন মৃধা জানান, খামারের অনুমোদন পেলে খামার থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বিষ উৎপাদন করা সম্ভব।
কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষ উৎপাদনের সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যেতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, পটুয়াখালীর বাংলাদেশ কোবরা ভেনমের পরিচালক রাজ্জাক বিশ্বাসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকায় সাপের খামার প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি রাজ্জাক বিশ্বাস এ খামার পরিদর্শন করে সার্বিক বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। খামার করার প্রথম দিকে গ্রামবাসী তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। সাপুড়ে, বেদে বলে ডাকতো। এমন কথাও শুনতে হয়েছে-‘শেষ পর্যন্ত সাপের ব্যবসা করতে হলো’! সেই সাথে ছিল কুসংস্কারের ভয়াল থাবা। কিন্তু এখন দেখেন সবাই তার সাথে। তাই সব সময়ই খামারের নিকটে থাকে উৎসুক জনতার ভিড়। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ মারে না। কারও বাড়িতে সাপ ধরা পড়লে তাকে খবর দেয়।

তিনি গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে খামারে নিয়ে আসেন। গ্রামের কারো বাড়িতে সাপ আছে- এমন সংবাদ পেলেই ছুটে যান তিনি ও তার অপর দুই সঙ্গী। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তা সংগহ করে নিয়ে আসেন খামারে। এছাড়াও বর্ষা বা গরম মৌসুমে সাপের উপদ্রব দেখা দিলে বা কোন বাসা বাড়িতে বিষধর সাপ দেখলেও তাকে খবর দেয়া হয়। মূলত মানুষের হাত থেকে বিপন্ন সাপকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। ফলে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘সর্পপ্রেমী মানুষ’ হিসেবে। এদিকে, প্রতিদিন যারাই আসছেন সকলেই খামার দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। নানা দিক জেনে শুনে বাস্তবে দেখে সাপ নিয়ে আতংক, কুসংস্কার, ভ্রান্ত ধারনার অনেকটাই কেটে গেছে তাদের। তারাও দাবি জানাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতার। খামারে আসে পাশে রোপন করা হয়েছে সাপের খাদ্য সরবরাহের জন্য কলাগাছ। এর মাঝেই বাস করছে সাপের প্রধান খাদ্য ব্যাঙ। পোষা হচ্ছে কোয়েল পাখি। কোয়েলের ডিম সাপের খাবার হিসেবে রাখা হয়। স্থানীয়রা জানান, রাজাপুরে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। সরকার যদি এই প্রকল্পে পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে দেশের অর্থনীতি এবং ওষুধ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই খামার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্ষাকালে আশ্রয়ের খোঁজে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে মানুষের বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ছে বিষধর গোখরা সাপ। বাড়ির লোকজনের চোখে পড়লেই ছড়াচ্ছে ভীষণ আতঙ্ক। আত্মরক্ষার্থে এগুলোকে পিটিয়েও মারা হচ্ছে হরদম। খামার গড়ে এই সাপের বিষ সংগ্রহ করে রফতানির উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ যাতে বিষাক্ত গোখরাও হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের মাধ্যম। দেশে গোখরাসহ অনেক প্রজাতির সাপ থাকার পরেও এগুলোর বিষ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধতা না থাকায় এ বিষয়ে বাণিজ্যিক কোনও উদ্যোগ নিতে পারছেন না আগ্রহীরা। এমনকি সাপের খামার করার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় চাইলেই বিনা অনুমোতিতে কারো পক্ষে এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সরকার বেসরকারি উদ্যোগে সাপের বাণিজ্যিক খামার স্থাপনের জন্য ২০টি শর্ত দিয়ে ২০০৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কষ্টে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে খামার মালিক যুবক সালাউদ্দিন শুরু করতে পারছেন না বিষ উৎপাদনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বিস্ময়কর ওই খামারটি দেখতে কৌতুহলী মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন খামারীর বাড়িতে। দেখছেন বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ, শুনছেন সাপ নিয়ে অজানা তথ্য ও সম্ভাবনার কথা। রাজাপুর কোবরা ভেনমের পরিচালক সালাউদ্দিন মৃধা দ্রুত তার খামারের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’’