হটাৎ আবার আদালতে আসিফ…

1267

আবার আদালতে যেতে হয়েছে আসিফ আকবরকে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হন দেশের জনপ্রিয় এই গায়ক।

আদালত সূত্র বলছে, আসিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি মামলায় আজ পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো পুলিশ প্রতিবেদন জমা হয়নি। তাই আগামী ৮ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

আদালত থেকে বাসায় ফিরে দুপুরে প্রথম আলোকে আসিফ আকবর বলেন, ‘দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি বরাবরই আমি ও আমার পরিবার শ্রদ্ধাশীল। জামিনে বের হওয়ার পর আজ আমার মামলার প্রথম হাজিরা ছিল। যথানিয়মে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছি। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদন জমা না পড়ায় হাজিরার নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়েছে।’

আইসিটি মামলায় গত ১১ জুন আসিফকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন আদালত। সেদিনই তিনি কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর গত ৬ জুন আসিফ গ্রেপ্তার হন। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন রিমান্ড চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আসিফকে কারাগারে পাঠান। আদালতে সেদিন আসিফ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

আইসিটি আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিন গত ৪ জুন তেজগাঁও থানায় গায়ক আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে তাঁর মগবাজার অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে।

শফিক তুহিন তাঁর মামলায় অভিযোগ করেছেন, ১ জুন রাত নয়টার দিকে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘সার্চ লাইট’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর অনুমতি ছাড়াই তাঁর সংগীতকর্মসহ অন্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, আসিফ তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তর করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।

শফিক তুহিন তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনা জানার পর তিনি গত ২ জুন রাতে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেন। তাঁর সেই পোস্টের নিচে আসিফ অশালীন মন্তব্য করেন ও হুমকি দেন। পর দিন রাত ১০টায় আসিফ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। লাইভে শফিক তুহিনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা বক্তব্য দেন। আসিফ লাইভে শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। আসিফের এই বক্তব্যের পর তাঁর ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শফিক তুহিনকে হত্যার হুমকি দেন। আসিফের লাইভ লাখ লাখ মানুষ দেখেছে। তিনি উসকানি দিয়েছেন। শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

সুত্রঃ www.prothomalo.com